• বুধবার, ২৮ ফেব্রুয়ারী ২০২৪, ১২:০৮ অপরাহ্ন

শ্রীলঙ্কা ও বাংলাদেশকে বিদায় করে ফাইনালে ভারত

নিজস্ব সংবাদদাতা / ৩৪ Time View
Update : বুধবার, ১৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৩

প্রথম দল হিসেবে এশিয়া কাপের ১৬তম আসরের ফাইনালে উঠলো রেকর্ড ছয়বারের চ্যাম্পিয়ন ভারত। মঙ্গলবার (১২ সেপ্টেম্বর) সুপার ফোর পর্বে নিজেদের দ্বিতীয় ম্যাচে বোলারদের দারুন নৈপুন্যে শ্রীলঙ্কাকে ৪১ রানে হারিয়ে ফাইনাল নিশ্চিত করে ভারত। নিজেদের প্রথম ম্যাচে পাকিস্তানকে ২২৮ রানের বড় ব্যবধানে হারিয়েছিলো টিম ইন্ডিয়া। ২ খেলায় ৪ পয়েন্ট নিয়ে টেবিলের শীর্ষে থেকে ফাইনালের টিকিট নিশ্চিত করে ভারত। এই হারে শ্রীলঙ্কার টানা ১৩ ম্যাচ জয়ের রেকর্ড এখানেই থামলো। এ ম্যাচে ভারতের জয়ে টুর্নামেন্ট থেকে ছিটকে গেলে বাংলাদেশ।

মঙ্গলবার কলম্বোর আর প্রেমাদাসা স্টেডিয়ামে টস জিতে প্রথমে ব্যাটিং বেছে নিয়ে ওপেনার শুভমান গিলের সাথে দারুন সূচনা করেন ভারত অধিনায়ক রোহিত। ১১ ওভারে ৮০ রান তুলে রোহিত-গিল। ১২তম ওভারে প্রথমবারের মত আক্রমনে এসে দুর্দান্ত এক ডেলিভারিতে গিলের উইকেট উপড়ে ফেলেন ওয়েলালাগে। আউট হওয়ার আগে ২৫ বল খেলে ১৯ রান করেন গিল।

গিল ফেরার পর ক্রিজে আসেন গতকালই পাকিস্তানের বিপক্ষে দুর্দান্ত সেঞ্চুরি করা বিরাট কোহলি। ওয়েলালাগের দ্বিতীয় ওভারে প্যাভিলিয়নের পথ ধরেন ৩ রান করা কোহলি।

পরপর দুই ওভারে গিল-কোহলিকে শিকারের পর নিজের তৃতীয় ওভারে উইকেটে সেট ব্যাটার রোহিতকেও শিকার করেন ওয়েলালাগে। ওয়ানডে ক্যারিয়ারের ৫১তম হাফ-সেঞ্চুরির ইনিংসে ৭টি চার ও ২টি ছক্কায় ৪৮ বলে ৫৩ রান করেন রোহিত। এই ইনিংস খেলার পথে বিশ্বের ১৫তম ও ভারতের ষষ্ঠ ব্যাটার হিসেবে ওয়ানডেতে ১০ হাজার রানের মাইলফলক স্পর্শ করেন রোহিত।
৮০ রানের সূচনার পর ৯১ রানে ৩ উইকেট হারিয়ে চাপে পড়ে ভারত। এ অবস্থায় উইকেট পতন ঠেকাতে লড়াই প্রতিরোধ গড়ে তুলেন ইশান কিশান ও গতকাল পাকিস্তানের বিপক্ষে শতরান করা লোকেশ রাহুল। সাবধানে খেলে ৩০তম ওভারে দলের রান দেড়শ স্পর্শ করেন তারা।

৩০তম ওভারেই কিশান-রাহুলের জুটি ভাঙ্গেন ওয়েলালাগে। নিজের সপ্তম ওভারে চতুর্থ শিকার হিসেবে রাহুলকে বিদায় দেন তিনি। ৪৪ বলে ৩৯ রান করেন রাহুল। চতুর্থ উইকেটে ৮৯ বলে ৬৩ রান যোগ করেন কিশান-রাহুল।

দলীয় ১৫৪ রানে চতুর্থ ব্যাটার হিসেবে রাহুলের আউটের পর ভারত ইনিংসে ব্যাটিং ধস নামান অকেশনাল স্পিনার চারিথ আসালঙ্কা। তার ঘূর্ণিতে ১৮৬ রানে নবম উইকেট হারায় ভারত। এসময় কিশান ৩৩, রবীন্দ্র জাদেজা ৪, জসপ্রিত বুমরাহ ৫ ও কুলদীপ যাদবকে শূণ্যতে বিদায় দেন এ ম্যাচের আগে ক্যারিয়ারে মাত্র ১৪ ওভার বোলিং করা আসালঙ্কা।

হার্ডিক পান্ডিয়াকে ৫ রানে শিকার করে ১৩ ম্যাচের ওয়ানডে ক্যারিয়ারে প্রথমবারের মত ইনিংসে ৫ উইকেট নেন ওয়েলালাগে।

ওয়েলালাগে-আসালঙ্কার ঘূর্ণিতে ২শর নীচে গুটিয়ে যাবার শঙ্কায় পড়া ভারতকে লজ্জার হাত থেকে রক্ষা করেন অক্ষর প্যাটেল ও মোহাম্মদ সিরাজ। শেষ উইকেটে ৪১ বল খেলে ২৭ রান তুলেন তারা। শেষ ব্যাটার হিসেবে প্যাটেলকে ২৬ রানে তুলে নিয়ে ভারতের ইনিংস ২১৩ রানে শেষ করেন স্পিনার মহেশ থিকশানা। ৫ রানে অপরাজিত থাকেন সিরাজ।

১০ ওভার বল করে ৪০ রানে ৫ উইকেট নেন ওয়েলালাগে। শ্রীলংকার পক্ষে সবচেয়ে কম বয়সী হিসেবে ওয়ানডেতে ৫ উইকেট নেয়ার নয়া রেকর্ডও গড়েছেন ওয়েলালাগে। ৯ ওভারে ১৮ রানে ৪ উইকেট নেন গেল বছরের জুনের পর বোলিং করতে আসা আসালঙ্কা। এর আগে আগে ৩৮ ম্যাচের ওয়ানডেতে ক্যারিয়ারে ১ উইকেট নিয়েছিলেন আসালঙ্কা।

২১৪ রানের টার্গেটে ভালো শুরু পায়নি শ্রীলংকা। ভারতের দুই ওপেনার জসপ্রিত বুমরাহ ও মোহাম্মদ সিরাজের তোপে অষ্টম ওভারে ২৫ রানে ৩ উইকেট হারায় তারা। পাথুম নিশাঙ্কাকে ৬ ও তিন নম্বরে নামা কুশল মেন্ডিসকে ১৫ রানে ফিরিয়ে দেন বুমরাহ। আরেক ওপেনার দিমুথ করুনারত্নকে (২) শিকার করেন সিরাজ।

শুরুর ধাক্কা সামাল দিতে জুটি গড়ার চেষ্টা করে সফল হন সাদিরা সামারাবিক্রমা ও আসালঙ্কা। চতুর্থ উইকেটে ৬২ বলে ৪৩ রান যোগ করেন তারা। সামারাবিক্রমাকে ১৭ রানে আটকে দিয়ে ভারতকে ব্রেক থ্রু এনে দেন স্পিনার কুলদীপ যাদব। কিছুক্ষণ বাদে আসালঙ্কাকেও ২২ রানে তুলে নেন কুলদীপ। এতে ৭৩ রানে পঞ্চম উইকেট হারিয়ে আবারও চাপে পড়ে শ্রীলংকা।

এ অবস্থায় ধনাঞ্জয়া ডি সিলভার সাথে জুটি গড়ার চেষ্টা করেন অধিনায়ক দাসুন শানাকা। জুটিতে ২৬ রান আসার পর জাদেজার শিকার হয়ে ৯ রান নিয়ে প্যাভিলিয়নে ফিরেন শানাকা।

৯৯ রানে ষষ্ঠ উইকেট হারিয়ে এক পর্যায়ে খাদের কিনারায় চলে যায় শ্রীলংকা। উইকেট পতন ঠেকিয়ে দলকে লড়াইয়ে ফেরানোর দায়িত্ব পান ধনাঞ্জয়া ও ওয়েলালাগে। ভারতকে চাপে ফেলতে দ্রুত রান তুলেন বল হাতে প্রতিপক্ষকে ধসিয়ে দেয়া ওয়েলালাগে। এই জুটিতেই দেড়শ রান পেরিয়ে যায় লংকানরা।

জমে যাওয়া ধনাঞ্জয়া-ওয়েলালাগে জুটি ভাঙতে মরিয়া হয়ে উঠে ভারত। ৩৮তম ওভারে ভারতের মুখে হাসি ফোটান জাদেজা। ৫টি চারে ৬৬ বলে ৪১ রান করা ধনাঞ্জয়াকে শিকার করেন জাদেজা। ওয়েলালাগের সাথে ৭৫ বলে ৬৩ রানের জুটি গড়েন ধনাঞ্জয়া।

সপ্তম ব্যাটার হিসেবে ধনাঞ্জয়ার বিদায়ের পর ১০ রানে শেষ ৩ উইকেট হারিয়ে হার বরণ করে শ্রীলংকা। শেষ পর্যন্ত ৪১ দশমিক ৩ ওভারে ১৭২ রানে গুটিয়ে যায় লংকানরা। ৩টি চার ও ১টি ছক্কায় ৪৬ বলে ৪২ রানে অপরাজিত থাকেন ওয়েলালাগে। ভারতের কুলদীপ ৪৩ রানে ৪ উইকেট নেন। বুমরাহ-জাদেজা ২টি করে উইকেট নেন।

আগামী ১৪ সেপ্টেম্বর সুপার ফোরে নিজেদের তৃতীয় ও শেষ ম্যাচে মুখোমুখি শ্রীলংকা ও পাকিস্তান। এ ম্যাচের বিজয়ী দল দ্বিতীয় দল হিসেবে ফাইনালে উঠবে। ২ খেলায় ২ করে পয়েন্ট আছে শ্রীলংকা ও পাকিস্তান।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আরও সংবাদ