• মঙ্গলবার, ১৪ মে ২০২৪, ০৮:১৬ অপরাহ্ন

সাংবাদিক দম্পতির ছাদবাগানে ১ কেজি মরিচ ২৮ লাখ টাকা

অনলাইন ডেক্স / ৩৩ Time View
Update : বুধবার, ৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৩

নোয়াখালী জেলায় এক সাংবাদিক দম্পতির ছাদবাগানের দুর্লভ ১৪০ প্রজাতির ফলজ ও ওষুধি গাছের মধ্যে মিললো বিশ্বের সবচেয়ে দামি মরিচ “চারাপিতা”। দেখতে গোলাকার প্রতিকেজি চারাপিতা মরিচের দাম ২৬ হাজার মার্কিন ডলার,যা বাংলাদেশি টাকায় ২৮ লাখেরও বেশি। দূর্লভ ও দামি এই মরিচ গাছ দেখতে ছাদবাগানে ভিড় করছে উৎসক মানুষ। তাদের মন্তব্য বাণিজ্যিকভাবে এই মরিচ চাষাবাদে অর্জিত হতে পারে বৈদেশিক মুদ্রা।
সরেজমিনে গেলে দেখা যায়,জেলার সদর কালিতারা বাজার এলাকায়  দোতলা বাড়ির ছাদে ২০১৯ সালে শখের বশে বাগান গড়ে তোলেন হাতিয়া কণ্ঠ পত্রিকার সম্পাদক এম দিলদার উদ্দিন এবং তাঁর স্ত্রী চরউরিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক সালমা ইমাম শিল্পী।মাত্র ৪ বছরের মাথায় তাদের ছাদবাগানে স্থান পেয়েছে পার্সিমন, পিচফল, ত্বীনফল, চেরিফল, মালবেরি, ব্লুবেরি, ব্ল্যাকবেরি, ট্যাং ফল, পিনাট বার্টার, থাই গোলমরিচ, লবঙ্গ, কফিগাছ, লাল কাঠাল, চায়না লিচু, করোসোল,মিয়াজাকি আমসহ বিদেশি ২৫ প্রকারের আম, রামভুটান, অস্ট্রেলিয়ান মাল্টা, ভিয়েতনামী বেরিকেটেড মাল্টা, আপেল, মিশরীয় ডালিম, চুইঝাল, কমলাসহ ১৪০ প্রজাতির বিদেশি দুর্লভ ফলজ ও ওষুধি গাছ।
এরমধ্যে ছাদবাগানে বর্তমানে দর্শক আকর্ষণ করছে আমেরিকার পেরু অঞ্চলের বিখ্যাত ও সুস্বাদু মরিচ ‘চারাপিতা’। যে মরিচের প্রতিকেজি বাজার দর ২৬ হাজার মার্কিন ডলার, যা বাংলাদেশি টাকায় ২৮ লাখেরও বেশি।
এ বিষয়ে সাংবাদিক দিলদার উদ্দিন বলেন, বাংলাদেশে সম্ভবত আমিই প্রথম এ মরিচের চারা রোপন করতে সক্ষম হয়েছি। ২০২১ সালে আমেরিকা প্রবাসী আমার মেয়ের শাশুড়ি দেশে বেড়াতে এলে তাঁর ঢাকার বাসায় খাবারের সঙ্গে পেরুর দুটি ছোট গোলাকার আকৃতির মরিচ খেতে দেয়। আমি খাবারের সঙ্গে ওই মরিচ না খেয়ে আমার ছাদবাগানে চারা করি। সেখানে দুটি চারা গজিয়ে টানা পৌনে দুই বছর ধরে ফলিত মরিচ সংগ্রহ করে নিজেরা খাই ও বিতরণও করি।সাম্প্রতিক সময়ে ইউটিউবের মাধ্যমে এ দম্পতি জানতে পারেন এটি বিশ্বের সবচেয়ে দামি মরিচ। এতে আশ্চর্য হয়ে পড়েন সাংবাদিক দম্পতি ও তাঁদের পরিবারের সদস্যরা। পরে গুগলে সার্চ করে জানতে পারেন তারা সুগন্ধি এ মরিচ মূলত ধনকুবেরা খেয়ে থাকেন। মধ্যপ্রাচ্যের রাজা-বাদশাহ বা শেখেরা তাদের খাবারে এ মরিচ ব্যবহার করেন। এইসব দেশের অনেক দামি হোটেলেও রান্নায় এটি ব্যবহার করা হয়। পেরুতে চারাপিতা একটি বন্য মরিচ হিসাবে পরিচিত, এটি দক্ষিন আমেরিকার পেরুর জঙ্গলে চাষ হয়। ইদানিং এটি পেরুতে বাণিজ্যিকভাবে ব্যবহারের জন্য চাষ করা হচ্ছে। এই ক্ষুদ্র মরিচের একটি শক্তিশালী স্বাদ রয়েছে । তবে এটি বেশিরভাগই বিভিন্ন খাবারকে কিছুটা মশলাদার করার জন্য গুঁড়ো আকারে ব্যবহৃত হয়।
যদিও বেশিরভাগ পশ্চিমা দেশে এখনও এটি অনেকটা অপরিচিত। ফাইভ-স্টার ও সেভেন-স্টার রেস্তোরাঁয় বিভিন্ন রান্নায় অত্যন্ত স্বাদযুক্ত মসলা হিসেবে এর বেশ চাহিদা রয়েছে। দিলদার উদ্দিন আরোও বলেন, এ মরিচ চাষের প্রসার ঘটাতে আমি ইতোমধ্যে আরো ২০টি চারা উৎপাদন করে টবে সাজিয়েছি।আগামী এক মাস পরে সবগুলো গাছেই মরিচ ধরবে। আশা করছি নভেম্বরের মধ্যে আরও একশটি চারা উৎপাদন করে আগ্রহী কৃষক ও ছাদবাগানীদের মাঝে বিতরণ করতে পারবো। এতে এ মরিচটি যেন সারা দেশে ছড়িয়ে পড়বে এবং রপ্তানীর মাধ্যমে দেশের অর্থনীতির ভীত আরো সুদৃঢ় হবে।
এ বিষয়ে সাংবাদিক দিলদারের স্ত্রী চরউরিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক সালমা ইমাম শিল্পী বলেন, শখের বশে বাড়ির ছাদে বাগানটি করেছি। আমার স্বামী বাগানে দেশীয় প্রজাতির গাছের চারাকে প্রাধান্য না দিয়ে বিদেশি প্রজাতির প্রায় ১৪০টি দুর্লভ ফলজ ও ওষুধি গাছ লাগিয়েছেন।বাগানে সবচেয়ে দামি গাছ চারাপিতা মরিচ গাছ। এটি কাঁচা অবস্থায় সবুজ,পরিপক্ক হলে হলুদ ও পাকলে টুকটুকে লাল হয়। সুগন্ধি ও আকর্ষনীয় দেখতে প্রতিনিয়ত মানুষ ছাদবাগানে ভিড় করে। আমরা বাগানের এই মরিচ আত্মীয়স্বজন ও বাগান দেখতে আসা দর্শনার্থীদের উপহার দিয়ে তৃপ্তি পেতাম।
ছাদবাগান ও চারাপিতা মরিচ দেখতে আসা দর্শনার্থী বেগমগঞ্জের হারুন অর রশিদ, বিদ্যানিকেতনের প্রধান শিক্ষক ফেরদৌসি বেগম পান্না ও ব্যবসায়ী দেলোয়ার হোসেন সজিব বলেন, বিশ্বের সবচে দামি মরিচ চারাপিতা দেখে খুব ভালো লেগেছে। জীবনে এই দুর্লভ মরিচ দেখবো, এটা ভাবতেই অবাক লাগছে। মরিচটি অত্যন্ত সুস্বাদু ও সুঘ্রাণযুক্ত। এই দুর্লভ মরিচ আমাদের দেশে বাণিজ্যিকভাবে চাষাবাদ করতে পারলে বিদেশে রপ্তানির মাধ্যমে বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন করা সম্ভব।
এ বিষয়ে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর নোয়াখালীর প্রশিক্ষণ কর্মকর্তা মুহাম্মদ শহীদুল ইসলাম বলেন, এই মরিচ আমাদের জন্য একেবারেই নতুন। পেরু অঞ্চলের দামি এই মরিচ আমাদের নোয়াখালীর সাংবাদিক দিলদার সাহেব তাঁর ছাদবাগানে দুই বছর আগ থেকে চাষ শুরু করেছেন। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশনা অনুযায়ী ছাদবাগানের পাশাপাশি এক ইঞ্চি জায়গাও খালি থাকবে না, সেই লক্ষে আমরা যে কোনো কৃষক এই মরিচ চাষাবাদে আগ্রহী হলে সব ধরণের প্রযুক্তিগত সহযোগিতা প্রদান করা হবে। আমরাও চাই দুর্লভ এই মরিচ চাষের মাধ্যমে দেশের অর্থনীতি সমৃদ্ধ হবে।ছাদবাগনের পাশাপাশি মাঠ পর্যায়ের কৃষকদের সম্পৃক্ত করে চারাপিতা মরিচ চাষাবাদে দেশের অর্থনীতিতে বৈদেশিক মুদ্রা যোগ হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে বলে মনে করেন সংশ্লিষ্টরা।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আরও সংবাদ