• শনিবার, ১৮ মে ২০২৪, ০২:০১ পূর্বাহ্ন

কুষ্টিয়ায় ইচ্ছেমতো বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেল সম্প্রচার

অনলাইন ডেক্স / ৫৬ Time View
Update : বৃহস্পতিবার, ২৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৩

সরকারের বেঁধে দেওয়া ক্রম অনুসরণ না করে বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেল সম্প্রচার করছে কুষ্টিয়ার দুই ক্যাবল টওয়ার্ক ডিস্ট্রিবিউটর প্রতিষ্ঠান। এছাড়া তাদের বিরুদ্ধে লাইসেন্স বিহীন অবৈধ টেলিভিশন সম্প্রচারেরও অভিযোগ রয়েছে।

খোঁজ নিয়ে দেখা যায়, ডট কম ক্যাবল নেটওয়ার্ক (খাজানগর, কবুরহাট, কুষ্টিয়া) এর প্রোপাইটর মকবুল হোসেন এবং কুষ্টিয়া ক্যাবল নেটওয়ার্ক (বি কে টাওয়ার, এন এস রোড, কুষ্টিয়া) এর প্রোপাইটর গাফ্ফার মোস্তাক শাহীন সরকারের বেঁধে দেওয়া ক্রম অনুসরণ না করে নিজেদের ইচ্ছেমতো বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেল সম্প্রচার করছে।

যা দেশের প্রচলিত আইন অনুযায়ী অপরাধ। দেশে একসময় আগে নেটওয়ার্ক অপারেটররা তাদের ইচ্ছেমতো চ্যানেলগুলোর ক্রম ঠিক করত। প্রথমদিকে কোন চ্যানেল দেখানো হবে এ নিয়ে নানা অনিয়মেরও অভিযোগ ছিল। এ বিষয়টি সমাধানে বর্তমান সরকারের তথ্য মন্ত্রণালয়ের বর্তমান মন্ত্রী জনাব হাসান মাহমুদ দায়িত্ব গ্রহণের পর অ্যাসোসিয়েশন অব টেলিভিশন চ্যানেল ওনার্সের (অ্যাটকো) সঙ্গে আলোচনা করে এ বিষয়ে একটি নির্দেশনা দিয়েছিল তথ্য মন্ত্রণালয়। সে মোতাবেক ক্যাবল নেটওয়ার্কে প্রথমে রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন চ্যানেল এবং এরপর সম্প্রচার শুরুর তারিখের ক্রমানুসারে বেসরকারি স্যাটেলাইট টিভি চ্যানেলগুলো সম্প্রচারের নিয়ম করে প্রজ্ঞাপন জারি করে। কিন্তু এই প্রজ্ঞাপনকে উপক্ষা করে নিজেদের ক্ষমতায় ইচ্ছেমতো বেসরকারি চ্যানেল সম্প্রচার করছে ডট কম ক্যাবল নেটওয়ার্ক (খাজানগর, কবুরহাট, কুষ্টিয়া) এর প্রোপাইটর মকবুল হোসেন এবং কুষ্টিয়া ক্যাবল নেটওয়ার্ক (বি কে টাওয়ার, এন এস রোড, কুষ্টিয়া) এর প্রোপাইটর গাফ্ফার মোস্তাক শাহীন।

অন্যদিকে যেসমস্ত বিদেশী টেলিভিশন সম্প্রচার করা হয়, তা সরকার অনুমোদিত দেশের ৩টি প্রতিষ্ঠান সম্প্রচার করে থাকে। প্রতিষ্ঠান গুলো হলো- ১. ওয়ান ইয়ার লাইন্স, ২. মিডিয়া কেয়ার ও ৩. বেক্সিমকো ডিজিটাল। এই তিনটি ডিস্ট্রিবিউটর প্রতিষ্ঠান ছাড়া অন্য কোন ভাবে বেসরকারি টেলিভিশন সম্প্রচার করা দন্ডনীয় অপরাধ। কিন্তু অভিযোগ রয়েছে ডট কম ক্যাবল নেটওয়ার্ক (খাজানগর, কবুরহাট, কুষ্টিয়া) এর প্রোপাইটর মকবুল হোসেন এবং কুষ্টিয়া ক্যাবল নেটওয়ার্ক (বি কে টাওয়ার, এন এস রোড, কুষ্টিয়া) এর প্রোপাইটর গাফ্ফার মোস্তাক শাহীন ইন্ডিয়ান ডিটিএস বক্সের মাধ্যমে পাইরেসি করে বিদেশী চ্যানেল সম্প্রচার করছে।

যার ফলে দেশের টাকা বিদেশে পাচার হচ্ছে। এতে একদিকে যেমন সরকার রাজস্ব থেকে বঞ্চিত হচ্ছে, তেমনি বৈধ নেটওয়ার্ক ডিস্ট্রিবিউটররাও ব্যবসায়িক ভাবে ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছে।

এ বিষয়ে মকবুল হোসেন ও গাফ্ফার মোস্তাক শাহীনের মুঠোফোনে যোগাযোগ করার চেষ্টা করেও সম্ভব হয়নি। উল্লেখ্য, সম্প্রচার শুরুর তারিখ অনুসারে পূর্ণ সম্প্রচারে থাকা ৩০টি বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেল ক্যাবল নেটওয়ার্কে প্রদর্শনের ক্রমবিন্যাস: ০১. এটিএন বাংলা- ১৫-০৭-১৯৯৭, ০২. চ্যানেল আই- ০১-১০-১৯৯৯ ০৩. ইটিভি- ১৪-০৪-২০০০ ০৪. এনটিভি- ০৩-০৭-২০০৩ ০৫. আরটিভি- ২৬-১২-২০০৫ ০৬. বৈশাখী টিভি- ২৭-১২-২০০৫ ০৭. বাংলাভিশন টিভি- ৩১-০৩-২০০৬ ০৮. দেশ টিভি- ২৬-০৩-২০০৯ ০৯. মাই টিভি- ১৫-০৪-২০১০ ১০. এটিএন নিউজ- ০৭-০৬-২০১০ ১১. মোহনা টিভি- ১১-১১-২০১০ ১২. বিজয় টিভি- ২০-১২-২০১০ ১৩. সময় টিভি- ১৭-০৪-২০১১ ১৪. ইন্ডিপেনডেন্ট টিভি- ২৭-০৭-২০১১ ১৫. মাছরাঙ্গা টিভি- ৩০-০৭-২০১১ ১৬. চ্যানেল ৯- ৩০-০১-২০১২ ১৭. চ্যানেল ২৪- ২৪-০৫-২০১২ ১৮. গাজী টিভি- ১২-০৬-২০১২ ১৯. চ্যানেল ৭১- ২১-০৬-২০১২ ২০. এশিয়ান টিভি- ১৮-০১-২০১৩ ২১. এসএ টিভি- ১৯-০১-২০১৩ ২২. গানবাংলা টিভি- ১৬-১২-২০১৩ ২৩. যমুনা টিভি – ০৫-০৪-২০১৪ ২৪. দীপ্ত টিভি- ১২-১২-২০১৫ ২৫. ডিবিসি নিউজ- ২১-০৯-২০১৬ ২৬. নিউজ ২৪- ২৮-০৭-২০১৬ ২৭. বাংলা টিভি – ১৯-০৫-২০১৭ ২৮. দুরন্ত টিভি- ১৫-১০-২০১৭ ২৯. নাগরিক টিভি- ০১-০৩-২০১৮ ৩০. আনন্দ টিভি- ০৩-১১-২০১৮।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আরও সংবাদ