• রবিবার, ১৯ মে ২০২৪, ০৬:১৪ অপরাহ্ন

পরকীয়া দেখে ফেলায় স্ত্রীকে হত্যা, স্বামী আটক

নিজস্ব সংবাদদাতা / ৩৬ Time View
Update : রবিবার, ২৭ আগস্ট, ২০২৩

পরকীয়া সংক্রান্ত কারণেই স্বামীর হাতে খুন হতে হয়েছে মিরপুরের কৃষ্ণপুর গ্রামের সুমি খাতুনের। লাশ উদ্ধারের ১২ ঘণ্টার মধ্যেই রহস্য উদঘাটন করল পুলিশ।

শুক্রবার (২৫ আগষ্ট) কুষ্টিয়ার মিরপুরে পুকুর থেকে ভাসমান অবস্থায় রাজিয়া খাতুন সুমি (২৬) নামের এক গৃহবধূর বিবস্ত্র মরদেহ উদ্ধার করেছিল পুলিশ। উক্ত ঘটনায় পরপরই সন্দেহজনক ভাবে নিহতের স্বামী রাকিবুল ইসলাম (৩৫) ও প্রেমিক মোঃ নজরুল ইসলাম (৪০) কে আটক করে পুলিশ।
পরবর্তীতে মিরপুর থানার ওসি মোঃ রফিকুল ইসলাম ও মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা পুলিশ পরিদর্শক মোঃ শফিকুল ইসলামের জিজ্ঞাসাবাদে আসামী উক্ত ঘটনার সাথে সম্পৃক্ততার কথা স্বীকার করে।

পুলিশ সূত্রে জানা যায়, ভিকটিম মোছাঃ রাজিয়া সুলতানা সুমি(৩২)
এর সাথে আসামি নজরুল ইসলামের মধ্যে দীর্ঘদিন প্রেমের সম্পর্ক চলে আসছিল। উক্ত সম্পর্ক শারীরিক সম্পর্কে রূপ নেই। তারই ধারাবাহিকতায় ঘটনার দিন অথ্যাৎ ২৪ আগষ্ট রাত অনুমান ৯ ঘটিকার সময় ভিকটিম সুমি তার পরকীয়া প্রেমিক আসামী নজরুল ইসলামের সাথে বাড়ির পাশে ডোবা পুকুরের পাড়ে বিচালি পালার পাশে শারীরিক সম্পর্কে লিপ্ত হয়। ওই সময় আসামি রাকিবুল ইসলাম প্রস্রাব করতে বের হয়ে ঘরের বারান্দা এসে দেখে যে তার স্ত্রী এবং আসামী নজরুল লুকোচুরি করছে। তারা কি করে দেখার জন্য রাকিব ঘরের বারান্দায় দাঁড়িয়ে থাকে। এক পর্যায়ে আসামি নজরুলের সাথে ভিকটিম সুমী খাতুন শারীরিক সম্পর্কে লিপ্ত হয়। বিষয়টি দেখে আসামী রাকিবের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। তাই তিনি ঘটনাস্থলের দিকে যায়। এ সময় আসামী নজরুল ইসলাম ভিকটিমের সাথে শারীরিক সম্পর্ক শেষ করে পাশের বাঁশ বাগান দিয়ে চলে যায়। ভিক্টিমের স্বামী কে যাওয়া দেখে ভিকটিম উক্ত ডোবা পুকুরে নিজেকে পরিষ্কার করে দাঁড়ানো মাত্র আসামী রাকিবুল ইসলাম ঘটনাস্থলে এসে ভিকটিম কে ঘটনার বিষয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করলে উভয়ের মধ্যে কথা কাটাকাটি হয়। এক পর্যায়ে আসামি রাকিব রাগান্বিত হয়ে ভিকটিমের গলায় পরিহিত থাকা ওড়না দিয়ে টান দিলে ফাঁস লেগে ভিকটিম ঘটনাস্থলেই মৃত্যুবরণ করেন। তখন আসামী তার মৃতদেহ ট্রেনে ডোবা পুকুরের মধ্যে ফেলে দিয়ে ঘরে এসে খোঁজাখুঁজি করতে থাকে এবং সবাইকে খোঁজ করতে বলে।যেন কেউ বুঝতে না পারে সেই খুন করেছে। আসামি রাকিবুল এ সময় তার শাশুড়ি এবং খালা শাশুড়িকেও ফোন করে বলে সুমিকে খুঁজে পাচ্ছি না। কে আমার কি সর্বনাশ করলো আমি বুঝতে পারছি না।উক্ত ঘটনার বিষয়ে আসামী নজরুল ইসলাম ও রাকিব কে গ্রেফতার করে বিজ্ঞ আদালতে সোপর্দ করা হলে আসামী রাকিবুল ইসলাম বিজ্ঞ আদালতে দোষ স্বীকার করে ঘটনার বিষয়ে স্বীকারোক্তি মূলক জবানবন্দি প্রদান করেছেন বলে জানা যায়।
এ প্রসঙ্গে মিরপুর থানার ওসি মোঃ রফিকুল ইসলাম বলেন, কুষ্টিয়ার পুলিশ সুপার আব্দুর রকিব বিপিএ,বিপিএম (বার),পিপিএম (বার) স্যারের দিকনির্দেশনায় মিরপুর সার্কেল এএসপি আব্দুল খালেক স্যার এর সার্বিক তদারকিতে মিরপুর থানার পুলিশ পরিদর্শক তদন্ত শফিকুল ইসলামের চৌকোষ তদন্তে আমরা রহস্য উদঘাটন করতে সক্ষম হই।পরবর্তীতে উক্ত আসামী দুজনকে আমরা বিজ্ঞ আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আরও সংবাদ