• রবিবার, ২১ এপ্রিল ২০২৪, ০৬:৫৪ অপরাহ্ন

অ্যাপের ফাঁদে সর্বশান্ত কুমারখালী-খোকসা উপজেলার হাজারও মানুষ

নিজস্ব সংবাদদাতা / ৩৭ Time View
Update : মঙ্গলবার, ২২ আগস্ট, ২০২৩

বিদেশি অ্যাপের ফাঁদে পড়ে শত কোটি টাকা খোয়ালেন কুমারখালী-খোকসা উপজেলার হাজারও মানুষ। রাতারাতি ধনি হওয়ার স্বপ্নে বিদেশি অ্যাপে টাকা বিনিয়োগ করে সর্বশান্ত ‌ কুষ্টিয়া জেলার কুমারখালী খোকসা উপজেলার হাজারও মানুষ। জেলার গ্রামগঞ্জেও সাধারণ মানুষ ‘অ্যাপের ফাঁদে’ পড়ে হয়েছেন সর্বশান্ত । স্কুল কলেজের ছাত্র-শিক্ষক থেকে শুরু করে সমাজের বিভিন্ন পেশার মানুষ এমটিএফই অ্যাপে লাখ লাখ টাকা বিনিয়োগ করে সবাই এখন নিঃস্ব।

সাধারণ মানুষ অ্যাকাউন্ট খুলে লাখ লাখ টাকা বিনিয়োগ করেছেন, কিছু না বুঝে আগেই। বিনিয়োগকারীরা টাকা দিয়েছেন ইউএস ডলারের হিসাবে। এসব টাকা সঙ্গে সঙ্গে চলে গেছে বিদেশে।, যেখান থেকে অ্যাপসটি পরিচালনা করা হচ্ছে। কমপক্ষে ৫০০ ডলার বিনিয়োগ করলে দিনশেষে ৪ হাজার টাকা লাভ আসবে। এই অকল্পনীয় মুনাফার লোভে শত শত মানুষ বিনিয়োগ করেছিল। অনেকেই গয়না-গাটি ও মূল্যবান সামগ্রী বন্ধক রেখেও বিনিয়োগ করেছিল এখানে। হঠাৎ করে MTFE কোম্পানি সব টাকা মেরে দিয়ে লাপাত্তা । দায়িত্বে থাকা মাসুম হোসেন ও মিজান নামে দুই ব্যক্

কুমারখালী এলঙ্গীপাড়া এলাকার শিপলু হোসেন (২৩) এমটিএফ অ্যাপ’-এ এক লাখ ১ লক্ষ ২০ হাজার টাকা বিনিয়োগ করেন। ১২ আগষ্ট লাভের টাকা তুলতে আবেদন করে কোম্পানীতে। কিন্তু সেই টাকা আর আসেনি ১৫ দিনেও।

এই বিষয়ে কুমারখালীতে দায়িত্বে থাকা মাসুম হোসেন জানান, অ্যাপ আপডেট চলছে সব ঠিক হয়ে যাবে।

গত সপ্তাহে কুষ্টিয়া জেলার MTFE সিও কুমারখালী তরুণ মোড় এলাকার মিজান হোসেন ও কুমারখালী ঝাউতলা গ্ৰামের সাবেক পুলিশ কনস্টেবল মাসুম হোসেন সৌদি আরবে ওমরা হজ্জে যাওয়ার পর। অ্যাপটির সব ডলার জিরো হয়ে গেছে। হাজারো মানুষ কে সর্বশান্ত করেছে তারা, তাদের আইনের আওতায় এনে কঠোর শাস্তি দাবি করেন তিনি।

খোকসা উপজেলার চর পাড়া গ্ৰামের সেলিম হোসেন MTFE অ্যাপে ৫০০ ডলার দিয়ে একাউন্ট খুলে। মাত্র ১৫ দিনের মাথায় অ্যাপের সব টাকা হাওয়া। বরং MTFE এর তার কাছে ৮০০ ডলার পাবে বলে দেখাচ্ছে অ্যাপে। সেলিম হোসেন আরো বলেন,লোন তুলে এই টাকা অ্যাপে দেওয়া হয়েছিল। এখন আমি দিশেহারা কি করে এই টাকা শোধ দেব। আমি এই প্রতারকদের ফাঁদে পড়ে আজ আমি সর্বশান্ত।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক ব্যক্তি জানান,‘‘মুভি অ্যাপ’’ নামের আরেকটি অ্যাপে লাখ লাখ টাকা বিনিয়োগ করে প্রতারণার শিকার হয়েছে শত শত মানুষ। মুভি অ্যাপের কুমারখালী বাস স্ট্যান্ডে অফিস খুলে মাসুম হোসেন ও মিজান নামে দুই যুবক, এই প্রতারণার কার্মকাণ্ড চালায়। ওই অ্যাপে কুমারখালী খোকসা উপজেলার হাজার হাজার মানুষ বিনিয়োগ করে প্রতারণার শিকার হয়। দুই উপজেলা থেকে প্রায় শতকোটি টাকা নিয়ে লাপাত্তা মাসুম ও মিজান।

কুমারখালী উপজেলার তেবাড়িয়া গ্ৰামের খোকন হোসেন, সম্প্রতি তিনি এমটিএফই অ্যাপে বিনিয়োগ করেন। চাকরি ছেড়ে অ্যাপ প্রতারণা চক্রে জড়িয়ে পড়েন তিনি , তার লক্ষাধিক টাকা নিয়ে উধাও MTFE । খোকন এখন বাড়ি ছাড়া, তিনি বলেন মাসে ৪০ হাজার টাকা লাভ দেখে আমি ইনভেস্ট করি’ এক লক্ষ টাকা। আমার সব টাকা নিয়ে উধাও ভুয়া এই কোম্পানি । মাসুম ও মিজান তাদের ধরলে সব টাকা উদ্ধার করা যাবে। এদের কে আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করছি।

কুমারখালী হল বাজারের টেলিকম ব্যবসায়ী মাসুম হোসেন বলেন, আমার মাধ্যমে যদি কেউ অ্যাপে টাকা বিনিয়োগ করে তার কিছু কমিশন আমার একাউন্টে জমা হতো। আগষ্ট মাসে এমটিএফ কোম্পানি সার্ভার সমস্যার কথা বলে, আমাদের টাকা নিয়ে লাপাত্তা এই কোম্পানি। কুমারখালী ঝাউতলা এলাকার প্রায় তিন শতাধিক মানুষ মাসুমের কথায় বিনিয়োগ করেছিল MTFE তে। এদের কে দেশে এনে কঠোর শাস্তি দিতে হবে।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে এমটিএফই অ্যাপে বিনিয়োগ করা আরেক যুবক বলেন, আমার পরিচিত এক ব্যক্তি ওই অ্যাপের প্রতিনিধি। তিনি আমাকে বলেছেন ২০০ ডলার সমপরিমাণ টাকা অ্যাপে বিনিয়োগ করলে, প্রতি সপ্তাহে দুই থেকে পাঁচ হাজার টাকা লাভ পাওয়া যাবে। তার মাধ্যমে ৬০ হাজার টাকা দিয়ে একটি একাউন্ট খোলা হয়। হঠাৎ করে এখন দেখছি MTFE অ্যাপে যে ডলার ছিল তা মাইনাস হয়ে গেছে ।

এমটিএফই অ্যাপের সিও পরিচয় দেওয়া, নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক জন বলেন, তার মত সারাদেশে এই অ্যাপের ৯ জন সিও রয়েছেন। কাউকে জোর করে ওই অ্যাপে টাকা বিনিয়োগ করতে বলা হয়নি। একজন বেকার যুবক যদি একটি কর্ম পায় তাহলে আমাদের ভালো লাগে।

তবে যে কোন সময় অ্যাপ বন্ধ হয়ে গেলে বিনিয়োগ টাকার দায়ভার কে নেবে জানতে চাইলে তিনি বলেন, এসব অ্যাপের সরকারি কোন অনুমোদন নেই। অ্যাপ বন্ধ হয়ে গেলে কেউ এর দায়ভার নেবে না। বর্তমানে অ্যাপে সমস্যার জন্য আমরাও বিভ্রান্তের মধ্যে পড়েছি।

কুষ্টিয়া জেলা পুলিশ সুপার এ এইচ এম আবদুর রকিব বলেন, এসব অ্যাপের কোন দেশে অনুমোদন নেই। এই অ্যাপের মাধ্যমে দেশের টাকা বিদেশে পাচার হচ্ছে। এসব বিষয়ে প্রতারণার শিকার হয়ে যদি কেউ অভিযোগ করে, তাহলে দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আরও সংবাদ