• শনিবার, ১৮ মে ২০২৪, ০৩:০১ অপরাহ্ন

মোবাইল ফোনে প্রেম, পালিয়ে এসে দেখেন প্রেমিক অন্ধ

Reporter Name / ৩৭ Time View
Update : শুক্রবার, ১ সেপ্টেম্বর, ২০২৩

মোবাইলে পরিচয় দুজনের। একবছর ধরে চলে কথোপকথন। একপর্যায়ে তা প্রেমের সম্পর্কে গড়ায়। প্রেমের টানে দুই সন্তানের মা এসে হাজির হন প্রেমিকের বাড়িতে। এসে দেখেন প্রেমিক চোখে দেখেন না। অতঃপর ভাগ্যের ওপর ছেড়ে দিয়ে বৃহস্পতিবার (৩১ আগস্ট) রাতে দুজন বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন।

ঘটনাটি ঘটেছে নোয়াখালীর হাতিয়া উপজেলার চরঈশ্বর ইউনিয়নের তালুকদার গ্রামে। প্রেমিক দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী মো. রাসেল (২৭) হাতিয়ার চরঈশ্বর ইউনিয়নের তালুকদার গ্রামের আর প্রেমিকা রেবা আক্তার সুমি (২২) ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগর উপজেলার বিদ্যাকুট ইউনিয়নের বাসিন্দা।

রেবা আক্তার সুমি বলেন, রাসেলের এক বন্ধুর মাধ্যমে মোবাইল ফোনে দুজনের পরিচয় হয়। এরপর থেকে প্রতিদিন মোবাইল ফোনে কথা হতো। এতে দুজনের মধ্যে ভালোবাসা ও আন্তরিকতা সৃষ্টি হয়। তাঁর দুটি সন্তান আছে। আগের স্বামী ট্রাকচালক। তার সঙ্গে দুই বছর আগে সম্পর্ক ছিন্ন হয়। এসব জেনেও রাসেল তাকে বিয়ে করবেন বলে জানান।

সুমি আরও বলেন, রাসেল দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী এটা সুমি আগে জানতেন না। চোখে সমস্যা আছে বলে রাসেল তাঁকে জানান। কিন্তু একেবারে দৃষ্টিহীন, এটা বলেননি। এখন যেহেতু চলে এসেছেন, তাই ভাগ্যের ওপর ছেড়ে দিয়ে বিয়ে করেছেন।

রাসেলের বড় ভাই রিকশাচালক জামসেদ বলেন, গত শনিবার হঠাৎ সুমি তাদের বাড়ি এসে হাজির হয়। রাসেল দৃষ্টিহীন, তার সংসার চালানোর সক্ষমতা নেই। এসব বলার পরও রাসেলকে বিয়ে করবে বলে সিদ্ধান্তে অটল থাকে সুমি। পরে দুজনকে নিয়ে আসা হয় হাতিয়া থানায়। থানা থেকে সুমির বাড়িতে যোগাযোগ করা হয়। কিন্তু তার বাবা-মা কেউ সাড়া দেননি। সবশেষ বৃহস্পতিবার দুজনের সম্মতিতে বিয়ে হয়।

এ ব্যাপারে হাতিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আমির হোসেন বলেন, রাসেলের ভাই থানায় এসে বিষয়টি বলেছেন। পরে পুলিশ পাঠিয়ে দুজনকে থানায় আনা হয়। সুমির দেওয়া ঠিকানা অনুযায়ী তার অভিভাবকের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়। কিন্তু তারা কেউ আসেননি। যেহেতু তারা দুজন প্রাপ্তবয়স্ক, তাই নিজেদের যেকোনো সিদ্ধান্ত নেওয়ার আইনগত অধিকার তাদের রয়েছে।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আরও সংবাদ